× CART

No item in cart.

সহিহ বুখারী

পরিচ্ছদঃ ৩১ | হাদিসের বিষয়: তারাবীহ্‌র সালাত

৩১/২০১৩: কিয়ামে রমযান- এর (রমযানে তারাবীর সালাতের) গুরুত্ব।

তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন যে, রমযানে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সালাত কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, রমযান মাসে ও রমযানে ব্যতীত অন্য সময়ে (রাতে) তিনি এগার রাক’আত হতে বৃদ্ধি করতেন না। [২] তিনি চার রাক’আত সালাত আদায় করতেন, তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি চার রাক’আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। এরপর তিন রাক’আত সালাত আদায় করতেন। আমি (‘আয়িশা রাঃ) বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি বিতর আদায়ের আগে ঘুমিয়ে যাবেন? তিনি বললেনঃ হে ‘আয়িশা! আমার দু’চোখ ঘুমায় বটে কিন্তু আমার কাল্‌ব নিদ্রাভিভূত হয়না।

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ فَقَالَتْ مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ، وَلاَ فِي غَيْرِهَا عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعًا فَلاَ تَسَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ، ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاَثًا‏.‏ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ قَالَ ‏ "‏ يَا عَائِشَةُ إِنَّ عَيْنَىَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي ‏"‏‏.‏

[২]
তারাবীর রাক’আতের সংখ্যা : সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসের মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে তিন ধরনের সংখ্যা বর্ণনা করা হয়েছে : (১) ১১ রাক’আত : ‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বিভিন্ন সনদে ও ভাষা-ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত্রিকালে ইশার পরের দু’রাক’আত ও ফজরের পূর্বের দু’রাক’আত সুন্নাত বাদে সর্বমোট এগার রাক’আত সালাত আদায় করতেন। এক বর্ণনায় এসেছে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযান ও অন্যান্য মাসেও রাত্রে ১১ রাক’আতের বেশী নফল সালাত আদায় করতেন না। (বুখারী হাদীস নং- ১১৪৭, ১১৩৯, ৯৯৪, ২০১৩, মুসলিম- সলাতুল্লাহই ওয়াল বিত্র ৬/১৬, ১৭, ২৭)
(২) ১৩ রাক’আত : ইনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাত্রিকালে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ১৩ রাক’আত নফল সালাত আদায় করতেন। [বুখারী হাদীস নং ১১৩৮, তিরমিযী (তুহ্ফা সহ) ৪৪০]
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসে ১১ রাক’আতের চেয়ে দু’রাক’আত বৃদ্ধি পাওয়া যায়। এ বর্ধিত ২ রাক’আত এর ব্যাখ্যা বিভিন্নভাবে পাওয়া যায়। নাসাঈ গ্রন্থে ইবনু আব্বাসরে বর্ণিত হাদীসে- ১৩ রাক’আতের বর্ণনা এসেছে। ৮ রাক’আত রাত্রের সালাত, তিনি রাক’আত বিত্র ও দু’রাক’আত ফজরের পূর্বের সুন্নাত। (নাসাঈ ৩/২৩৭), ফাতহুল বারী ২/৫৬২)
ফজরের দু’রাক’আত সুন্নাত ধরে ‘আয়িশা (রাঃ)-ও ১৩ রাক’আতের কথা বর্ণনা করেছেন। দেখুন বুখারী হাদীস নং ১১৪০, মুসলিম-সলাতুল লাইলি ওয়াল বিত্র ৬/১৭-১৮, ফাতহুল বারী ২/৫৬২, বুখারীতে ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কোন কোন বর্ণনায় ১১ ও দু’রাক’আতকে পৃথক করে দেখানো হয়েছে; হাদীস নং ৯৯৪, ১১৪০। যে সমস্ত বর্ণনায় ১৩ রাক’আতের বিস্তারিত বর্ণনা আসেনি, সে সমস্ত বর্ণনায় ফজরের ২ রাক’আত কিংবা ইশার ২ রাক’আত সুন্নাত উদ্দেশ্য। (ফাতহুল বারী ২/৫৬২ পৃ: )
কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাত্রের সালাত উদ্বোধন করতেন হালকা করে দু’রাক’আত সালাত আদায়ের মাধ্যমে। হতে পারে এই ২ রাক’আত নিয়ে ১৩ রাক’আত। কিন্তু এই ২ রাক’আত সালাত বিভিন্ন হাদীসের মাধমে ইশার সুন্নাত বলেই প্রতীয়মান হয়। (আলবাণী প্রণীত সলাতুত্ তারাবী ১৭ নং টীকা)
(৩) পনের রাক’আত: ইশার পরে ও ফজরের পূর্বের দু’রাক’আত সুন্নাত সালাত সহ ‘আয়িশা (রাঃ) ও ইবনু আব্বাস উভয়েই ১৫ রাক’আত বর্ণনা করেছেন। ‘আয়িশা (রাঃ)-এর হাদীস নং ১১৬৪, ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস নং ৯৯২।
সহীহ হাদীসসমূহের মাধ্যমে ও পূর্বাপর প্রায় সকল মুহাদ্দিস ও ফাক্বীহগণের মতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ১১ বা ইশা অথবা ফজরের সুন্নাত মিলিয়ে ১৩ বা উভয় সালাতের সুন্নাত মিলিয়ে ১৫ রাক’আতের বেশী সাত্রের সালাত পড়েননি। (রমযান সম্পর্কিত রিসালাহ : আকরামুজ্জামান বিন আব্দুস সালাম)
কেউ বলতে পারেন যে, যতি ১১ বা ১৩ এর অধিক রাক’আত তারাবী পড়া সহীহ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত না হয় বরং সহীহ বাস্যস্ত হাদীসের বিপরীত হয় তবে সউদী আরবে মক্কা-মদীনায় মসজিদদ্বয়ে কেন ২০ রাক’আত পড়ানো হয়? হ্যাঁ- এ কথা সত্য, তবে মক্কায় মসজিদুল হারাম, মসজিদে ‘আয়িশা সহ দু’চারটি মসজিদ এবং মদীনার মসজিদে নাবাবী, কূবা ও ক্ব্বিবলাতাইন এবং বিণিন্ন শহরে দু’একটি করে মসজিদ ব্যতীত সৌদি আরবের হাজার মসজিদে লক্ষ লক্ষ ও কোটি মুসলিম সহীহ হাদীস মোতাবেক ১১ রাক’আত পড়েন। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যদি ২০ রাক’আত সহীহ হাদীসের বিপরীত হত তবে মক্কা-মাদনিাহ্র মসজিদে পালন করা হত না। জবাবে বলা হবে, ৮০১ হিজরী থেকে শুরু করে ১৩৪৩ হিজরী পর্যন্ত সর্বমোট ৫৪২ বৎসর ধরে মক্কার মসজিদুল হারাম এক সালাত চার জামা’আতে আদায় করার জঘন্যতম বিদ’আত যদি এতদিন চলতে পারে তবে তারাবীর ক্ষেত্রে সহীহ হাদীসের বিপরীত আমল চালু থাকা বিচিত্র কিছু নয়। আজ থেকে ৬৯ বৎসর পূর্বে যেমন চার জামা’আত উঠে গেছে, সহীহ হাদীস মুতাবিক এক জামা’আতে আদায় করা হচ্ছে তেমনি এক সময় ২০ রাক’আত উঠে গিয়ে সহীহ হাদসি মোতাবেক ১১ রাক’আত চালু হওয়া দূরের কোন ব্যাপার নয়।
যে সমস্ত হাদীসের কিতাবে ১১ রাক’আতের দলীল বিদ্যমান তা উল্লেখ হলো:
(বুখারী ১ম ঘণ্ড ১৫৪, ২৬৯ পৃষ্ঠা। মুসরিম ২৫৪ পৃষ্ঠা। আবূ দাঊদ ১০ খণ্ড ১৮৯ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪৮ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ৯৯ পৃষ্ঠা। ইবনু মাজাহ ৯৭-৯৮ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১৩৮ পৃষ্ঠা। সহীহ ইবনু খুযাইমাহ ৩য় খণ্ড ৩৪১ পৃষ্ঠা। যাদুল মাআদ ১০ খণ্ড ১৯৫ পৃষ্ঠা। বুখারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩য় খণ্ড হাদীস নং ১৫৯২-১৫৯৭। বুখারী আযিযুল হক ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬০৮। বুখারী আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড ১০৭৬, ২য় খণ্ড হাদীস নং ১৮৭০। মিশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ৩য় খণ্ড ও মাদ্রাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ১২২৮। হাদীস শরীফ মাওঃ আবদুর রহীম ২য় খণ্ড ৩৯০ পৃষ্ঠা)

বিশ রাক’আত তারাবী প্রসঙ্গ:

(আরবী)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযান মানে (জামাআত ব্যতীতই) বিশ রাক’আত তারাবী পড়তেন। তারপর বিতর পড়তেন।– এটি জাল হাদীস। হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু আবি শায়বা ‘মুসান্নাফ’ ২/৯০/২, আব্দ বিন হামিদ ‘মুনতাখাব মিনাল মুসনাদ’, তাবারানী ‘মু’জামুল কাবির’ ৩/১৪৮/২ ও ‘আওসাত’ ইবনু আদী ‘কামেল’ ১/২৩, খতীব “মুওয়াজ্জেহ” গ্রন্থে ১/২১৯, বাইহাকী ২/৪৯৬ ও অন্যান্যরা। এদের প্রত্যেকেই আবী শায়বার সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের পূর্ণ সনদ নিম্নরূপ-
(আরবী)
ইমাম তাবারানী বলেন, ইবনু আব্বাস হতে এই সনদ ব্যতীত অন্য সনদে এটি বর্ণিত হয়নি। ইমাম বাইহাকী বরেন, এটি আবূ শায়বার একক বর্ণনা আর সে হল যঈফ রাবী। আল্লামা আলবাণী (রহঃ) বরেন- “আর অনুরূপ হাইসামী (রহঃ) বরেছেন যে, এখানে আবূ শায়বা হলো যঈফ”। হাফিয (রাঃ) বরেন, ইবনু আবি শায়বার সম্পৃক্ততার কারণে সনদটি দুর্বল। হানাফী মাযহাবের বিখ্যাত হাফিযে হাদীস আল্লাহ জামালুদ্দীন যায়লায়ী হানাফী (রহঃ)-ও এর সনদকে যঈফ বলেছেন। তিনি হাদীসের মতনকে অস্বীকার করে বলেন, আর এটি ‘আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীসের বিপরীত। ‘আয়িশা (রাঃ)-এর হাদিসটি হল-
(আরবী)
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানে ও অন্যান্য সময়ে এগারো রাকআতের বেশি পড়তেন না। অতঃপর দেখুন নাস্বুর রায়া ২/১৫৩, হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ)-ও একই কথা বলেছেন। ফকীহ আহমাদ বিন হাজার (রহঃ) ‘ফাতাওয়া কুবরা’ গ্রন্থে বরেন-নিশ্চয় ওটি চরম দুর্বল হাদীস (আরবী)। ইরওয়া্উল গালীল ৪৪৫। এছাড়াও সনদে আবূ মায়বা ইবরাহীম বিন ওসমান সম্পর্কে-
ইমাম সানাঈ (রহঃ) বলেন-সে পরিত্যক্ত (আরবী)। ইমাম শু’বা (রহঃ) বরেন, সে মিথ্যাবাদী (আরবী)। ইমাম দারেমী (রহঃ) বরেন, তার বর্ণিত কথা দলিল হিসেবে গণ্য নয়। মিযানুল ঈতিদাল ১ম খণ্ড। আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবাণী (রহঃ) বলেন, আমার দৃষ্টিতে তিনটি কারণে হাদীসটি জাল।
(১) হাদীসটি ‘আয়িশা (রাঃ) ও জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের বিপরীত।
(২) সনদে আবূ শায়বা দুর্বলতায় চরম যা ইমাম বাইহাকী ও অন্যান্যদের উদ্ধৃতি দ্বারা বুঝা গেছে। তদুপরি তার সম্পর্কে-ইবন মাঈন বলেছেন, সে নির্ভরযোগ্য নয় (আরবী)। জাওযাজানী বলেছেন, সে বর্জিত (আরবী)। শু’বা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেছেন-তার ব্যাপারে কেউ মত ব্যক্ত করেননি।
ইমাম বুখারী যখন কারো সম্পর্কে (আরবী) বলেন, তখন সেই ব্যক্তির অবস্থান হয় নিকৃষ্টতর ও তার নিকট অধিকতর খারাপ।
(৩) আবূ শায়বার হাদীসে বলা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমযানে জামাআত ছাড়া নামায পড়েছেন। এটি অনুরূপ জাবির (রাঃ)-এর হাদীসের বিরোধী। ‘আয়িশা (রাঃ)-এর অন্য হাদীসে রয়েছে-
(আরবী)
নিশ্চয় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাত্রিতে রাতের মধ্যভাগে বের হলেন এবং মসজিদে সালাত আদায় করলেন। লোকেরাও তাঁর সাথে সালাত আদায় করল। অতঃপর মানুষেরা সকালে উপস্থিত হয়ে বলাবলি করতে লাগল এবং (দ্বিতীয় দিনে) তাদের চেয়েও বেশি লোক জমায়েত হলো এবং তাঁর সাথে সালাত আদায় করল। এরপর লোকেরা সকালে উপনীত হয়ে (সালাতের ব্যাপারে) বলাবলি করতে লাগল। অতঃপর তৃতীয় রাত্রিতে মসজিদে মুসল্লীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেল। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বের হয়ে সালাত আদায় করলেন। হাদীসটি জাবির (রাঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ। আর তাতে রয়েছে যে-
(আরবী)
বরং আমি ভয় করেছিলাম তোমাদের উপর ফরজ হয়ে যাবার। ফলে তা পালনে তোমরা অপারগ হয়ে পড়বে। সহীহ বুখারী ও মুসলিম। এ সকল দিকগুলোই প্রমাণ করে যে, আবী শাযবার হাদীসটি বানোয়াট। (সিলসিলাতুল আহাদীসিয যঈফা অল-মাওযুআ ৫৬০)
(আরবী)
ইয়াহইয়া বিন সাঈদ হতে বর্ণিত। নিশ্চয় 'উমর (রাঃ) এক ব্যক্তিকে তাদের সাথে বিশ রাক’আত নামায পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদীসটি মুনকাতে’। ইবনু আবী শায়বা- মুসান্নাফ ২য় খণ্ড ১৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং ৭৬৮২, এই বর্ণনাটি মুনকাতি’।
আল্লামা মুবারাকপুরী ‘তুহফাতুল আহওয়াযী’ গ্রন্থে বলেছেন, আল্লামা নিমভী (রহঃ) ‘আসার আসসুনান’ গন্থে বলেছেন, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আনসারী 'উমর (রাঃ)-এর সময় পান নাই। আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবাসী বলেন, তার সিদ্ধান্ত নিম্ভী (রহঃ)-এর অনুরূপ। এই আসারটি মুসকাতে’ যা দলিল গণ্য হবার জন্য শুদ্ধ নয়। তদুপরি এটি উমর (রাঃ) বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত প্রতিষ্ঠিত হাদীসের বিপরীত। হাদীসটি হলো-
(আরবী)
‘উমর (রাঃ) দু’জন সাহাবী (১) উবাই বিন কা’ব (২) তামীমদারীকে (রমযান মাসে) ১১ রাকা’আত নামায পড়ানোর নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। (মুয়াত্তা মালিক হাদিস নং ২৫৩)
হাদিসটি ‘মুয়াত্তা’ মালিক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এমনিভাবে ইয়াহিয়া বিন সাঈদের হাদিস রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে প্রমাণিত বিশুদ্ধ হাদিসের বিরোধী। তাছাড়া ইয়াহিয়া বিন সাঈদকে কেউ কেউ মিথ্যাবাদীও বলেছেন। যেমন ইমাম আবূ হাতিম (রহঃ) বলেন, ইয়াহিয়া বিন সাঈদ কর্তৃক বর্ণিত কোন কথাই সত্য নয় বরং প্রত্যাখ্যাত। কারণ সে হল মিথ্যাবাদী। (জরহে আত্তাদীল ৯ম খণ্ড, তাহযীবুত তাহযীব ৬ষ্ঠ খণ্ড)
(আরবী)
আবূ হাসানা বরেন, আলী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে বিশ রাক’আত তারাবী পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ হাদীসের নসদ যঈফ। মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ২য় খণ্ড, বাইহাকী ২/৪৯৬, ইমাম বাইহাকী বলেন, এর সনদ দুর্বলতা রয়েছে। আল্লামা আলবাণী (রহঃ) বরেন, এতে আবুল হাসানা ত্রুটি যুক্ত। তার সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বরেছেন, সে কে তা জানা যায়নি। হাফির (রাঃ) বলেছেন, সে অজ্ঞাত। আবূল হাসানা কৃর্তক বর্ণিত হাদীস প্রত্যাখ্যাত। মিযানুল ইতিদাল ১ম খণ্ড, যঈফ সুনানুল কুবরা ২য় খণ্ড, বাইহাকী।
(আরবী)
আব্দুল আযীয় বিন রাফে’ বলেন, উবাই বিন কা’ব রমযান মাসে মদীনায় লোকদের সাথে বিশ রাক’আত (তারাবী) নামায পড়েছেন এবং বিত্র পড়েছেন তিন রাকাআত।
হাদীসটি মুনকাতে’। মুসান্নাফ আবী শায়বা ২/৯০/১। এখানে আব্দুল আযীয ও উবাই এর মধ্যে ইনকিতা’ হয়েছে। কেননা, তাদের উভয়ের মৃত্যুর ব্যবধান ১০ বছর বা তারও অধিক সময়ের। দেখুন- (তাহযীবুত তাহযীব) আর এজন্যই আল্লামা নিম্ভী হিন্দী (রাঃ) বরেছেন যে, আব্দুল আযীয বিন রাফে, উবাই বিন কা’বের সময় পান নাই। আল্লামা আলবাণী বলেন, এখানে উবাই বিন কা’বের আসারটি মুনকাতে’। সাথে সাথে এটি 'উমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসের বিরোধী। (যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) অনুরূপ একটি উবাই এর সপ্রমাণিত বর্ণনার বিরোধী। বর্ণনাটি হলো-
(আরবী)
উবাই বিন কা’ব বলেন, তিনি রমযান মাসে তার ঘরে মহিলাদের নিয়ে আট রাক’আত (তারাবী) সালাত আদায় করতেন। অনুরূপ আবূ ইয়ালায় বর্ণিত জাবির (রাঃ)-এর হাদীস- আব্দুল্লাহ বলেন, উবাই বিন কা’ব (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! রমযানের রাত্রিতে আমার একটি ব্যাপার ঘটে গেছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তা কী হে উবাই! সে বলরো, আমার ঘরের নারীরা বলে যে, আমরা কুরআন পাঠ করবো না বরং আপনার সঙ্গে নামায পড়বো? তিনি বললেন, আমি তাদের নিয়ে আট রাক’আত নামায পড়লাম এবং বিতর বড়লাম। হাইসামী বরেছেন, এর সনদ হাসান, আলবাণীর মতও তাই।
(আরবী)
সায়িব বিন ইয়াযীদ বরেন, আমরা 'উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর সময় ২০ রাক’আত তারাবী ও বিতর পড়তাম। (নাস্বুর রায়ালিআহাদীসে হিদায়া ২য় খণ্ড, ৯৯ পৃষ্ঠা)
হাদীসটির সনদ যঈফ। হাদীসের সনদে- (১) আবূ উসমান বাসরিী রয়েছে। সে হাদীসের ক্ষেত্রে অস্বীকৃত। (২) খালিদ বিন মুখাল্লাদ রয়েছে। সে যঈফ। তার বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত, তার কোন বর্ণনা দলীল হিসেবে গণ্য নয়। তদুপরি সে ছিল শিয়া ও মিথ্যাবাদী। (তাহযীব ২য় খণ্ড) (৩) ইয়াযীদ বিন খুসাইফা রয়েছে। তার সকল বর্ণনা প্রত্যাখ্যাত। (মিযানুল ই’তিদাল, তাহযীবুত্ তাহযীব ২য় খণ্ড)
(আরবী)
ইয়াযীদ বিন রুমান বরেন, 'উমর (রাঃ)-এর সময় লোকেরা (রমযানে) ২৩ রাক’আত নামায পড়তো।
এটির সনদ যঈফ। মালিক ১/১৩৮, ফিরইয়াবী ৭৬/১, অনুরূপ বাইহাকী ‘সুনান’ ২/৪৯৬ এবং এবং “মা’রেফা” গ্রন্থে আর তাতে তিনি হাদীসটিকে এই বলে যঈফ বলেছেন যে, ইয়াযীদ বিন রুমান 'উমর (রাঃ)-এর যামানা পান নি।
ইমাম যায়লায়ী হানাফী (রহঃ) ও নাসবুর রায়াহ গ্রন্থে একই কথা বলেছেন- দেখুন নাস্রুর রায়াহ ২/১৫৪। ইমাম নববী (রহঃ) এটিকে যঈফ বলেছেন, মজমু’ গ্রন্থে। অতঃপর তিনি বরেছেন, হাদীসটি ইমাম বাইহাকী বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেটি মুরসাল। কেননা, ইয়াযিদ বিন রুমান 'উমর (রাঃ)-এর সময়ে ছিলেন না। (আরবী)
*অনুরূপ আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী (রহঃ) এটিকে যঈফ বলেছেন- ‘উমদাতুল কারী শরহে সহীহ বুখারী (৫/৩০৭) গ্রন্থে এই বলে যে, এর সনদ মুসকাতে’।
* আল্লামা নাসিরুদ্দীন আলবাণী (রহঃ)-ও এটিকে যঈফ বলেছেন। (ইরওয়ালিল গালীল ২/১৯২)

তারাবীর রাক’আত সম্পর্কে মনীষীদের পর্যালোচনাঃ

* শায়খ আবুদল হক মুহাদ্দিস দেহলভী হানাফী (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ২০ রাক’আতের প্রমান নেই। ২০ রাক’আতের হাদীস দুর্বল সনদে বর্ণিত হয়েছে। যার দুর্বলতার ব্যাপারে সকল হাদীস বিশারদগণ একমত।
* হিদায়া গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইবনেল হুমাম (রহঃ) বলেন, তাবারানী ও ইবনু আবী শায়বার হাদীস দুর্বল এবং বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদীসের বিরোধী। ফলে এটি বর্জনীয়।
* আল্লাহ আনোয়ার শাহ কাশ্মিরী (রহঃ) বরেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে কেবলমাত্র ৮ রাক’আত তারাবী-এর হাদীসটি সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। ২০ রাক’আতের হাদীস যঈফ। এ ব্যাপারে সকলে একমত। খুবই সঠিক কথা স্বীকার করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই যে, রসূলুল্লাহর তারাবীহের নামায ছিল ৮ রাক’আত। (আল-‘উরফুশ শাযী ৩০৯ পৃষ্ঠা)
* মোল্লা আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, হানাফী শায়খদের কথার দ্বারা বিশ রাক’আত তারাবী বুঝা যায় বটে কিন্তু দলীল প্রমাণ মতে বিতর সহ ১১ রাক’আতই সঠিক। (মিরকাত ১ম খণ্ড)
* আল্লামা ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) বরেন, ২০ রাক’আতের হাদিস সহীহ হাদীসের বিরোধী হওয়ায় তা বিনা দ্বিধায় বর্জনীয়।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন- ইমাম সানাঈ ‘যুআফা’ গ্রন্থে, আল্লামা আইনী হানাফী উমদাতুল কারী গ্রন্থে, আল্লামা ইবনু আবেদীন ‘হাশিয়া দুররের মুখতার’ গ্রস্থে এবং অন্যান্য বহু মনীষীযণ।
বর্তমান জগতে সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস নাসিরুদ্দীন আলবাণী (রহঃ) তাঁর প্রণীত ‘সলাতুত তারাবী’ গ্রন্থে তারাবীর রাক’আত সংখ্যা সম্পর্কে বরেন: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ১১ রাক’আতি তারাবী সালাত আদায় করেছেন। যে হাদীসে তাঁর বিশ রাক’আতি পড়ার উল্লেখ রয়েছে তা খুবই দুর্বল তাই এগার রাক’আতের বেশি তারাবী পড়া জাযিয় নয়। কেননা, বৃদ্ধি করাটাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কর্মকে বাতিল ও তাঁর কথা অসার করাকে আবশ্যক করে দেয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর ভাষ্য: ‘তোমরা আমাকে যেরূপ সালাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক সেভাবেই সালাত আদায় করো”। আর সেজন্যই ফজরের সুন্নাত ও অন্যান্য সালাতে বৃদ্ধি করা বৈধ নয়। যখন কারোর জন্য সুন্নাত স্পষ্ট হয় না এবং প্রবৃত্তির অনুসরণও করে না, ১১ রাক’আতের বেশি তারাবী পড়ার কারণে তাদেরকে আমরা বিদ’আতীও বলি না। এ ব্যাপারে চুপ থাকাটাই নিঃসন্দেহে উত্তম। কেননা, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর বাণী হলোঃ “মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর হিদায়াতই উত্তম হিদায়াত”।
আর 'উমর (রাঃ) তারাবীর সালাতে কোন নতুনত্বই সৃষ্টি করেননি। বন্তুতঃ তিনি এই নুন্নাতে জামা’আতবদ্ধতা সৃষ্টি করেছেন এবং সুন্নাতি রাক’আত সংখ্যার (১১) হিফাজত করেছেন। 'উমর (রাঃ) সম্পর্কে যে উক্তি বর্ণনা করা হয়- তিনি এ তারাবীর সংখ্যাকে অতিরিক্ত বিশ পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন- এর সনদের কিছুই সহীহ নয়। নিশ্চয় এর সনদের একটি অপরটিকে মক্তিশালী করে না এবং সমার্থতার ভিত্তিকে শক্তিশালী বুঝায় না। ইমাম শাফিয়ী (রহঃ) ও ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এটিকে দুর্বল বর্ণনা বলেই নির্দেশনা দিয়েছেন এবং ইমাম নববী (রহঃ), ইমাম যায়লায়ী (রহঃ) সহ অন্যান্যরাও এর কতককে যঈফ সাব্যস্ত করেছেন।
যদি উল্লেখিত অতিরিক্ত করাটা প্রমাণিত হয়ও তখাপিও আজকের যুগে তা আমল করা ওয়াজিব নয়। কেননা, অতিরিক্ত করণটি এমন একটি কারণ যা সহীহ হাদীস থাকার কারণে দূর হয়ে গেছে। এই (২০) সংখ্যার উপর বাড়াবাড়ির ফল এই যে, সালাত আদায়কারীরা তাতে তাড়াহুড়া করে এবং সালাতের একাগ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি সালাতের বিশুদ্ধতাও নষ্ট হয়ে যায়।
এ অতিরিক্ত সংখ্যা আমাদের গ্রহণ না করার কারণ ঠিক সেরূপ যেমন ইসলামী আইনে 'উমর (রাঃ)-এর ব্যক্তিগত অভিমত: এক বৈঠকে তিন তালাককে তিন তালাক হিসেবে গ্রহণ না করে। আর এতদুভয়ের মাঝে কোনই পার্থক্য নেই। বরং আমরা গ্রহন করেছি সেই যিনি [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ] তাদের (২০ রাক’আতপন্থীর) গৃহীত ব্যক্তি হতে উত্তম। এমনকি তাদের গৃহীত ব্যক্তি মুকাল্লিদদের নিকটেও উত্তম।
সাহাবীদের কেউ ২০ রাক’আত তারাবী পড়েছেন- তার প্রমাণ নেই। বরং ইমাম তিরমিযী (রহঃ) আলী (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটি দুর্বল হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিশ্চয় ২০ রাক’আতের ব্যাপারে ইজমা সাব্যস্ত হয়নি। তাই সুন্নাত সম্মত (১১) সংখ্যাকে আঁকড়ে ধরাই অবশ্য কর্তব্য যা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও 'উমর (রাঃ) হতে প্রমাণিত। আর আমরাতো আদিষ্ট হয়েছি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার খালীফা চতুষ্টয়ের সুন্নাত পালনে যারা ছিলেন সঠিক পথের দিশারী। ইমাম মালিক, ইবনুল আরাবীসহ অন্যান্য উলামা এই অতিরিক্ত (২০) সংখ্যাকে অপছন্দ করেছেন।

বর্ণনাকারীঃ আবূ সালামা ইবনু ‘আবদুর রাহমান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

Showing 6 - 6 of 6 Hadiths
//
TOP