× CART

No item in cart.

সহিহ বুখারী

পরিচ্ছদঃ ৭৫ | হাদিসের বিষয়: রোগীদের বর্ণনা

৭৫/৫৬৫৫: অসুস্থ শিশুদের সেবা করা।

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর এক কন্যা (যাইনাব) তাঁর কাছে খবর দিয়েছেন, এ সময় উসামাহ, সা’দ ও সম্ভবতঃ ‘উবাই (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে ছিলেন। খবর এই ছিল যে, (যায়নাব বলেছেন) আমার এক শিশুকন্যা মৃত্যুর দুয়ারে উপনীত। কাজেই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কাছে সালাম পাঠিয়ে বলে দিলেনঃ আল্লাহ যা চান নিয়ে নেন, যা চান দিয়ে যান। তাঁর কাছে সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই তুমি ধৈর্য ধর এবং উত্তম বিনিময়ের আশা পোষণ কর। অতঃপর পুনরায় তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট কসম ও তাগিদ দিয়ে প্রেরণ করলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে দাঁড়ালেন। আমরাও দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপরে শিশুটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কোলে তুলে দেয়া হল। এ সময় তার নিঃশ্বাস দ্রুত উঠানামা করছিল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু’চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরতে লাগল। সা’দ (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! এটা কী? তিনি উত্তর দিলেনঃ এটা হল রাহমাত। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা করেন তার হৃদয়ে এটি দিয়ে দেন। আর আল্লাহ তাঁর দয়াদ্র বান্দাদের প্রতিই দয়া করে থাকেন(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪০)

حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَخْبَرَنِي عَاصِمٌ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ ابْنَةً لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَرْسَلَتْ إِلَيْهِ وَهُوَ مَعَ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم وَسَعْدٌ وَأُبَيٌّ نَحْسِبُ أَنَّ ابْنَتِي قَدْ حُضِرَتْ فَاشْهَدْنَا فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا السَّلاَمَ وَيَقُوْلُ إِنَّ لله مَا أَخَذَ وَمَا أَعْطٰى وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَه“ مُسَمًّى فَلْتَحْتَسِبْ وَلْتَصْبِرْ فَأَرْسَلَتْ تُقْسِمُ عَلَيْهِ فَقَامَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَقُمْنَا فَرُفِعَ الصَّبِيُّ فِي حَجْرِ النَّبِيِّصلى الله عليه وسلم وَنَفْسُه“ جُئِّثُ فَفَاضَتْ عَيْنَا النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَه“ سَعْدٌ مَا هٰذَا يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ هٰذِه„ رَحْمَةٌ وَضَعَهَا اللهُ فِي قُلُوبِ مَنْ شَاءَ مِنْ عِبَادِه„ وَلاَ يَرْحَمُ اللهُ مِنْ عِبَادِه„ إِلاَّ الرُّحَمَاءَ.

বর্ণনাকারীঃ উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৫৬: অসুস্থ বেদুঈনদের সেবা করা।

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক বেদুঈনের নিকট গিয়েছিলেন, তার রোগ সম্পর্কে জানার জন্য। বর্ণনাকারী বলেন, আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিয়ম ছিল, তিনি যখন কোন রোগীকে দেখতে যেতেন তখন তাকে বলতেনঃ কোন ক্ষতি নেই। ইন্‌শাআল্লাহ তুমি তোমার গুনাহসমূহ থেকে পবিত্রতা লাভ করবে। তখন বেদুঈন বললঃ আপনি বলেছেন, এটা গুনাহ থেকে পবিত্র করে দেবে? কক্ষনো না, বরং এটা এমন এক জ্বর যা এক অতি বৃদ্ধকে গরম করছে কিংবা সে বলেছে উত্তপ্ত করছে, যা তাকে কবরে পৌঁছাবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাঁ তাহলে তেমনই।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪১)

مُعَلّٰى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُخْتَارٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلٰى أَعْرَابِيٍّ يَعُودُه“ قَالَ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ عَلٰى مَرِيضٍ يَعُودُه“ فَقَالَ لَه“ لاَ بَأْسَ طَهُورٌ إِنْ شَاءَ اللهُ قَالَ قُلْتَ طَهُورٌ كَلاَّ بَلْ هِيَ حُمّٰى تَفُورُ أَوْ تَثُورُ عَلٰى شَيْخٍ كَبِيرٍ تُزِيرُهُ الْقُبُورَ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَنَعَمْ إِذًا.

বর্ণনাকারীঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৫৭: মুশরিক রোগীর দেখাশুনা করা।

এক ইয়াহূদীর ছেলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সেবা করত। ছেলেটির অসুখ হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) তাঁর অসুখের খোঁজ নিতে এলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। সে ইসলাম গ্রহণ করল। সা’ঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহ:) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ ত্বলিব মারা গেলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কাছে এসেছিলেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪২)

سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ غُلاَمًا لِيَهُودَ كَانَ يَخْدُمُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُه“ فَقَالَ أَسْلِمْ فَأَسْلَمَ وَقَالَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِيهِ لَمَّا حُضِرَ أَبُو طَالِبٍ جَاءَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم.

বর্ণনাকারীঃ আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৫৮: কোন রোগীকে দেখতে গিয়ে সলাতের সময় হলে সেখানেই উপস্থিত লোকদের নিয়ে জামা’আতবদ্ধ সলাত আদায় করা।

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অসুস্থতার সময় লোকজন তাঁকে দেখার জন্য তাঁর কাছে আসলে তিনি তাঁদের নিয়ে বসা অবস্থায় সলাত আদায় করেন। লোকজন দাঁড়িয়ে সলাত শুরু করেছিল, ফলে তিনি তাদের ইঙ্গিত করলেন, বসে যাও। সলাত শেষ করে তিনি বলেনঃ ইমাম হল এমন ব্যক্তি যাকে অনুসরণ করতে হয়। সে রুকু করলে তোমরাও রুকু করবে। সে যখন মাথা উঠাবে, তোমরাও মাখা উঠাবে। সে যখন বসে সলাত আদায় করবে, তখন তোমরাও বসে সলাত আদায় করবে। হুমাইদী (রহ:) বলেছেনঃ এ হাদীসটি রহিত হয়ে গেছে।
আবূ ‘আবদুল্লাহ বুখারী (রহ:) বলেন, কেননা, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবনে শেষ যে সলাত আদায় করেন তাতে তিনি নিজে বসে সলাত আদায় করেন আর লোকজন তাঁর পেছনে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিল।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৩)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَ عَلَيْهِ نَاسٌ يَعُودُونَهُ فِي مَرَضِهِ فَصَلَّى بِهِمْ جَالِسًا فَجَعَلُوا يُصَلُّونَ قِيَامًا، فَأَشَارَ إِلَيْهِمِ اجْلِسُوا، فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ ‏ "‏ إِنَّ الإِمَامَ لَيُؤْتَمُّ بِهِ، فَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِنْ صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ قَالَ الْحُمَيْدِيُّ هَذَا الْحَدِيثُ مَنْسُوخٌ لأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم آخِرَ مَا صَلَّى صَلَّى قَاعِدًا وَالنَّاسُ خَلْفَهُ قِيَامٌ‏.‏

বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৫৯: রোগীর দেহে হাত রাখা।

তাঁর পিতা বলেছেন, আমি যখন মক্কায় ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখার জন্য আসেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহ্‌র নবী! আমি সম্পদ রেখে যাচ্ছি। আর আমার একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আর কেউ নেই। এ অবস্থায় আমি কি আমার দু’তৃতীয়াংশ সম্পদ অসীয়ত করে এক-তৃতীয়াংশ রেখে যাব? তিনি উত্তর দিলেনঃ না। আমি বললামঃ তা হলে অর্ধেক রেখে দিয়ে আর অর্ধেক অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললামঃ তাহলে দু’তৃতীয়াংশ রেখে দিয়ে এক-তৃতীয়াংশ অসীয়ত করে যেতে পারি? তিনি উত্তর দিলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ পার, তবে এক-তৃতীয়াংশও অনেক। তারপর তিনি আমার কপালের উপর তাঁর হাত রাখলেন এবং আমার চেহারা ও পেটের উপর তাঁর হাত বুলিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহ, সা’দকে তুমি আরোগ্য কর। তাঁর হিজরাত পূর্ণ করে দাও। আমি তাঁর হাতের শীতল স্পর্শ এখনও পাচ্ছি এবং মনে করি আমি তা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত পাব।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৪৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৪)

الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا الْجُعَيْدُ عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدٍ أَنَّ أَبَاهَا قَالَ تَشَكَّيْتُ بِمَكَّةَ شَكْوًا شَدِيدًا فَجَاءَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي فَقُلْتُ يَا نَبِيَّ اللهِ إِنِّي أَتْرُكُ مَالاً وَإِنِّي لَمْ أَتْرُكْ إِلاَّ ابْنَةً وَاحِدَةً فَأُوصِي بِثُلُثَيْ مَالِي وَأَتْرُكُ الثُّلُثَ فَقَالَ لاَ قُلْتُ فَأُوصِي بِالنِّصْفِ وَأَتْرُكُ النِّصْفَ قَالَ لاَ قُلْتُ فَأُوصِي بِالثُّلُثِ وَأَتْرُكُ لَهَا الثُّلُثَيْنِ قَالَ الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ ثُمَّ وَضَعَ يَدَه“ عَلٰى جَبْهَتِه„ ثُمَّ مَسَحَ يَدَه“ عَلٰى وَجْهِي وَبَطْنِي ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا وَأَتْمِمْ لَه“ هِجْرَتَه“ فَمَا زِلْتُ أَجِدُ بَرْدَه“ عَلٰى كَبِدِي فِيمَا يُخَالُ إِلَيَّ حَتّٰى السَّاعَةِ.

বর্ণনাকারীঃ আয়িশা বিন্‌ত সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

Showing 16 - 20 of 38 Hadiths
//
TOP