× CART

No item in cart.

সহিহ বুখারী

পরিচ্ছদঃ ৭৫ | হাদিসের বিষয়: রোগীদের বর্ণনা

৭৫/৫৬৪৫: রোগের কাফ্‌ফারা ও ক্ষতিপূরণ।

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহ্‌ যে ব্যক্তির কল্যাণ কামনা করেন তাকে তিনি দুঃখকষ্টে পতিত করেন।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১২৯)

عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ أَبِي صَعْصَعَةَ أَنَّه“ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ يَسَارٍ أَبَا الْحُبَابِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ يُرِدْ اللهُ بِه„ خَيْرًا يُصِبْ مِنْهُ.

বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৪৬: রোগের তীব্রতা

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চেয়ে বেশী রোগ যন্ত্রণা ভোগকারী অন্য কাকেও দেখিনি। [১][মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭০, আহমাদ ২৫৪৫৩]আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩০)

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الأَعْمَشِ،‏.‏ حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشَدَّ عَلَيْهِ الْوَجَعُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏

[১] আলোচ্য হাদীসে দেখা যায় রসূল (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাঝে মধ্যে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়তেন। কুরআন মাজীদে সূরায়ে আম্বিয়ায় দেখা যায় আইয়ূব (‘আঃ) কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে উক্ত রোগ যন্ত্রণা হতে নিস্কৃতি চেয়ে আল্লাহ তা’আলার সমীপে দু’আ করেছেন। অতীব দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, অজ্ঞ লোকেরা কোন ‘আলিম, পরহেজগার লোকগণকে কোন রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে দেখলে গভীর উৎসাহের সাথে বলতে থাকে যে, অমুক ‘আলিম সাহেব বা মুহাদ্দিস সাহেবের বর্তমানে ভীষণ রোগে ভুগতে দেখা যায়। সুতরাং তাঁর ‘আমল ভাল নয়। তাঁর প্রতি আল্লাহর কোন রহমত নেই। তিনি যদি রহমতপ্রাপ্ত লোকই হয়ে থাকেন, তবে তাঁর এই অবস্থা কেন হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি বদনাম ছড়িয়ে পরহেজগার ‘আলিম ওলামা শ্রেণীর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষদেরকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলতে চায়। এখানে লক্ষ্য করলে পরিষ্কার দেখা যায় যে, রহমতের অসীম ভাণ্ডার যে নবীর প্রতি বর্ষিত হয়েছে, যাঁকে নিঃসীম রহমতের প্রতীক রহমাতুল্লিল ‘আলামীন উপাধিতে আল্লাহ তা’আলা নিজেই ভূষিত করলেন, তাঁকেই রোগ ব্যাধি দিয়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত করে দেন, সেখানে তাঁর কোন অনুসারীকে উক্ত পরীক্ষায় নিক্ষেপ করা তো স্বাভাবিক ব্যাপার।
অতএব কোন খাঁটি ও নেক বান্দাদের প্রতি ‘আলিম বিদ্বেষী অযথা কটাক্ষকারীদের কথায় সাধারণ মু’মিনদের বিভ্রাস্ত হওয়া ঠিক নয়। বরং কোন ‘আলিম উলামা, পরহেজগার শ্রেণীকে রোগাক্রান্ত অবস্থায় দেখা গেলে তাঁদের প্রতি গভীর ভক্তি শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা নিয়ে তাঁদের সেবা যত্নে আত্মনিয়োগ করা সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করতে হবে। পূর্ববর্তী নেককার লোকদের এবং সাহাবায়ে কিরামদের ‘আমাল ও অভ্যাস এমনটাই ছিল নিঃসন্দেহে।

বর্ণনাকারীঃ আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৪৭: রোগের তীব্রতা

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমি বললামঃ নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। আমি এও বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। যে কেউ রোগাক্রান্ত হয়, তাথেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়। [৫৬৪৮, ৫৬৬০, ৫৬৬১, ৫৬৬৭; মুসলিম ৪৫/১৪, হাঃ ২৫৭১] আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩১)

مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي مَرَضِه„ وَهُوَ يُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا وَقُلْتُ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا قُلْتُ إِنَّ ذَاكَ بِأَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ قَالَ أَجَلْ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُه“ أَذًى إِلاَّ حَاتَّ اللهُ عَنْه“ خَطَايَاه“ كَمَا تَحَاتُّ وَرَقُ الشَّجَرِ.

বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৪৮: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ। এরপরে ক্রমশ প্রথম ব্যক্তি এবং পরবর্তী প্রথম ব্যক্তি।

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেনঃ হাঁ। তোমাদের দু’ব্যক্তি যতটুকু জ্বরে আক্রান্ত হয়, আমি একাই ততটুকু জ্বরে আক্রান্ত হই। আমি বললামঃ এটি এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ তাই। কেননা যেকোন মুসলিম দুঃখ কষ্টে পতিত হয়, তা একটা কাঁটা কিংবা আরো ক্ষুদ্র কিছু হোক না কেন, এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলোকে মুছে দেন, যেমন গাছ থেকে তার পাতাগুলো ঝরে পড়ে।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩২)

عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يُوعَكُ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا قَالَ أَجَلْ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلاَنِ مِنْكُمْ قُلْتُ ذ‘لِكَ أَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ قَالَ أَجَلْ ذ‘لِكَ كَذ‘لِكَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُه“ أَذًى شَوْكَةٌ فَمَا فَوْقَهَا إِلاَّ كَفَّرَ اللهُ بِهَا سَيِّئَاتِه„ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا.

বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ (রাঃ থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৭৫/৫৬৪৯: রোগীর সেবা করা ওয়াজিব।

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, রোগীর সেবা কর এবং কষ্টে পতিতকে উদ্ধার কর। [৫৫](আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৩৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৩৩)

قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مُوسٰى الأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَطْعِمُوا الْجَائِعَ وَعُودُوا الْمَرِيضَ وَفُكُّوا الْعَانِيَ.

[৫৫] উপরোক্ত হাদীসে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ক্ষুধার্তকে অন্নদান, রোগীকে সেবা করা, নিপীড়িত ব্যক্তির মুক্তি দানের জন্য মানবগোষ্ঠিকে তাকীদ দিয়েছেন। বস্তুতপক্ষে রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সারা জীবনে উক্ত কালজয়ী বাণীর বাস্তবতা অসংখ্যবার নিজেই প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। নবুয়্যাতের কষ্টি পাথরের পরশে যারা সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন তাদের কাজে-কর্মে, চলনে-বলনে মানব সেবা, আর্তের সেবাই ছিল রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উক্ত মহান বাণীর বাস্তব প্রতিফলন। অনাহারী, অর্ধাহারী, বুভুক্ষু নর-নারী, অসহায় নিরাশ্রয় মানুষের পরম বন্ধু ছিলেন আমাদের মহানবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। অতঃপর সাহাবা (রাঃ) হতে শুরু করে খলীফা চতুষ্টয়ের শেষ আমলসহ তাবে-তাবেয়ীনদের শেষ আমল পর্যন্ত মানব সেবায় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উক্ত অমিয় বাণীকে মুসলিমগণ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যারা পৃথিবীতে এক সোনালী ইতিহাস রচনা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ফলে মাত্র ২৫ বছরের মুসলিম শাসনের পর অর্ধ-পৃথিবী মুসলিম শাসনাধীন হয়েছিল। আজকের বিশ্বেও পুনর্বার সেই উদ্দীপনা নিয়ে যদি মুসলিম জাতি সমাজে, রাষ্ট্রে আবির্ভূত হতে পারে তাহলে সমগ্র পৃথিবী মুসলিমদের বিজয় দুন্দুভি বেজে উঠবে। মুসলিম জাতির শাসন প্রতিবন্ধকহীনভাবে ততদিন চলমান ছিল যতদিন পর্যন্ত তাদের ত্যাগ তিতিক্ষা, কুরবানী, মানব-সেবা, সততা, ন্যায়নীতি ক্রম ধাবমান গতিতে এগিয়ে চলেছিল। মুসলিম জাতি যখন সেবা, সততা, ন্যায়নীতিকে ইস্তফা দিয়ে ও নাকে তেল দিয়ে ভোগ বিলাসের নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো তখন হতেই তাদের বিশ্বময় কর্তৃত্বের দিন শেষ হয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আলোচ্য হাদীসকে স্বীয় উম্মাতের নৈতিক দায়িত্ব বলে ঘোষণা করার মূলে ও উম্মাতের শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অক্ষুন্ন রাখার অভিপ্রায় নিহিত আছে।

বর্ণনাকারীঃ আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

Showing 6 - 10 of 38 Hadiths
//
TOP